জাতীয়

১ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি: দেশে হামে নতুন আক্রান্ত ১,১১৯ জন সহ সংকট চরমে

ঢাকা, ০৯ সেপ্টেম্বর – দেশে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না সংক্রামক ব্যাধি হাম। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাসপাতালে ছুটছেন শত শত রোগী, আর নিয়মিত যোগ হচ্ছে মৃত্যুর নতুন নাম। দীর্ঘদিন টিকা কর্মসূচির সাফল্য থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে দেশজুড়ে হামের এই চোখ রাঙানি এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মাধ্যমে চলতি বছরে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে—যা এক ভয়াবহ মাইলফলক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে ময়মনসিংহে ২ জন এবং ঢাকায় ১ জন রয়েছেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১১৯ জন রোগী।

বিভাগভিত্তিক নতুন রোগী ভর্তির হিসাব:

ঢাকা বিভাগ: ৪৯৬ জন (সর্বোচ্চ)

চট্টগ্রাম বিভাগ: ২২০ জন

সিলেট বিভাগ: ১৮৩ জন

বরিশাল বিভাগ: ১৩৮ জন

খুলনা বিভাগ: ৫৯ জন

ময়মনসিংহ বিভাগ: ৪১ জন

রাজশাহী বিভাগ: ৩৫ জন

রংপুর বিভাগ: ১৭ জন

চলতি বছরের সামগ্রিক চিত্র ও ভীতিকর পরিসংখ্যান

পরিসংখ্যান বলছে, গত মার্চ মাস থেকেই দেশে হামের প্রভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পায়। ১৫ মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:

  • সন্দেহজনক হামের মোট রোগী: ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জন।
  • পরীক্ষায় নিশ্চিত আক্রান্ত: ১৯ হাজার ৯০৪ জন।
  • হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগী: ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন (যার মধ্যে ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন)।
  • মোট মৃত্যুর হিসাব: নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ৯০২ জন—সর্বমোট ১,০০২ জন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো শিশুদের প্রতিষেধক টিকা (MR Vaccine) নিশ্চিত না করা বা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার শিশুরা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাওয়া এই ধরনের প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে এই রোগে নিউমোনিয়া বা জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা:

  • শিশুদের নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে এমআর (MR) টিকা দেওয়া নিশ্চিত করুন।
  • হঠাৎ জ্বর, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দানাদার ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা বা আইসোলেশনে রাখুন।

এনএন/ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button