আসাম

জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইন: আসাম সরকারকে ২ লাখ রুপি জরিমানার নির্দেশ গুয়াহাটি হাইকোর্টের

গুয়াহাটি হাইকোর্ট

দিসপুর, ৮ সেপ্টেম্বর – বাংলাদেশি নাগরিক আখ্যা দিয়ে মুমতাজ বেগম নামের এক মুসলিম নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় আসাম সরকারকে দুই লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন গুয়াহাটি হাইকোর্ট। পরিবারের সদস্যদের কোনো ধরনের তথ্য না জানিয়েই তাকে সীমান্ত দিয়ে পুশইন করার অভিযোগে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি কল্যাণ রাই সুরানা এবং বিচারপতি সুস্মিতা ফুকন খাউন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন যে মুমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণার পর তার পরিবারকে অবগত করা হয়নি এবং তাকে আইনি লড়াই বা সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও দেওয়া হয়নি।

তাকে আটক এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে আদালত মন্তব্য করেন। মুমতাজের স্বামী মুজাম্মেল হক তার স্ত্রীর সন্ধানে হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস আবেদন করলে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে ২০১৯ সালে নাগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মুমতাজ বেগমকে বিদেশি ঘোষণা করেছিল। তবে হাইকোর্ট পরে দেখতে পায় যে তার দাখিল করা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রগুলো ট্রাইব্যুনাল বিবেচনায় নেয়নি।

এর ফলে গত এপ্রিল মাসে হাইকোর্ট ট্রাইব্যুনালের ওই রায় বাতিল করে মামলাটি পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। এরপর গত ৩০ মে মুমতাজ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দিতে গেলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায়। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী গত ১৪ জুন মধ্যরাতে তাকে গোপনে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

গুয়াহাটি হাইকোর্ট নাগাঁও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে কড়া সমালোচনা করে বলেন যে সেখানে আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে কাউকে বিদেশি ঘোষণা বা আটক করার আগে অবশ্যই তাকে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অনুলিপি প্রদান করতে হবে।

এছাড়া তাকে জেলা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে তার পরিবারের অন্তত একজন প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যকে তা জানাতে হবে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে আসামের স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি মুমতাজ বেগমকে শনাক্ত করে ভারত ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এস এম/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button