জাতীয়

রবি ও বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি: সেপ্টেম্বরেই আসছে সাত জাহাজ সার

সাত জাহাজ সার

ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর – মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে সার আমদানিতে তৈরি হওয়া সাময়িক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ফের গতি ফিরেছে। রবি ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে সার সরবরাহ ও মজুদ বাড়াতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই দেশে পৌঁছাবে সাতটি বড় জাহাজ।

এসব জাহাজে করে ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট, মিউরেট অব পটাশ এবং ট্রিপল সুপার ফসফেট সার আনা হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে যে, চলতি মাসেই দেশে আসছে প্রায় আড়াই লাখ টন সার। এর মধ্যে দেড় লাখ টন এমওপি, ৬০ হাজার টন টিএসপি এবং ৪০ হাজার টন ডিএপি সার রয়েছে।

পরবর্তী মাসে সার নিয়ে আরো অন্তত ১০টি জাহাজ বন্দরে আসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মরক্কো থেকে টিএসপি ও ডিএপি সার আমদানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া ও কানাডা থেকে এমওপি সার আনা হচ্ছে। শীতকালীন সবজি এবং বোরো ধানের আবাদ শুরুর আগে সারের এমন সরবরাহ কৃষকদের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে সারের মোট চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশই থাকে শীতকালীন মৌসুমে। তাই এই সময়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম আমদানির পাশাপাশি দেশীয় কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের সংকট ও ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলিও করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন যে, সার আমদানির জন্য নিয়মিত একাধিক উৎস ব্যবহার করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে কিছু সরবরাহ ব্যাহত হলেও বর্তমানে বিকল্প রুটে সার আনা হচ্ছে। ফলে আসন্ন মৌসুমে সারের সরবরাহ নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এস এম/ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button