বাংলাদেশে আসছে ডিজিটাল ব্যাংক: লাইসেন্স পাচ্ছে আটটি প্রতিষ্ঠান

ঢাকা, ৩০ আগস্ট – বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ডিজিটাল ব্যাংক। প্রচলিত ব্যাংক ব্যবস্থার মতো কোনো শাখা, উপশাখা বা নিজস্ব এটিএম ছাড়াই পরিচালিত হবে এসব ব্যাংক। মোবাইল ফোন ও অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খোলা, আমানত রাখা, লেনদেন এবং ঋণের আবেদনসহ প্রায় সব ধরনের ব্যাংকিং সেবা মিলবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে। এছাড়া ভার্চুয়াল কার্ড এবং কিউআর কোডসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সেবাও যুক্ত থাকবে ডিজিটাল ব্যাংকগুলোতে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আটটিকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আগামী পর্ষদ সভায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স প্রদানের প্রস্তাব পেশ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কম খরচে দ্রুত ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের মানুষ, তরুণ উদ্যোক্তা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সেবার আওতায় আনতে ডিজিটাল ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যারা এখনো ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
দ্বিতীয় দফায় আবেদনকারীদের মধ্যে রবি আজিয়াটার বুস্ট, বাংলালিংক ও স্কয়ারের যৌথ উদ্যোগ নোভা ডিজিটাল ব্যাংক, আকিজ রিসোর্সের মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক এবং আশার মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংকসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে কোন আটটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে বাছাই হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক এশিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী বলেন, ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে কম খরচে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্ম আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত হবে।
তবে সাইবার নিরাপত্তা এবং তথ্যের সুরক্ষায় বড় বিনিয়োগ ও গ্রাহক সচেতনতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। ২০২৩ সালে দেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আবেদনগুলোর মূল্যায়ন কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই পর্ষদ সভার মাধ্যমে চূড়ান্ত লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হবে।
এস এম/ ৩০ আগস্ট ২০২৬









