জাতীয়

মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বাংলাদেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধির নতুন শঙ্কা বিশ্বব্যাংকের

ঢাকা, ২৯ আগস্ট – মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। বৈশ্বিক মহামারি কোভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে এমনিতেই দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ মানুষের দারিদ্র্যসীমার ওপরে ওঠার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে মাত্র ৫ লাখ মানুষ সেই সুযোগ পাবে। অর্থাৎ প্রায় ১২ লাখ মানুষ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির চাপে দারিদ্র্য থেকে বের হতে পারবে না।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৬ লাখ মানুষ কাজ হারাতে পারেন।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেল ও সার আমদানির ব্যয় মেটাতে বাংলাদেশ সরকারের বাজেট সহায়তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন একটি প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে বিশ্বব্যাংক। পরবর্তীতে ২৬ জুন ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বাজেট সহায়তা অনুমোদন করা হয়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের উচিত কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য নির্ভর। আমদানিনির্ভর এলএনজি ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করেছে। এছাড়া ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ কৃষি উৎপাদনে গ্যাসের সংকট খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে ২০২৫ সাল নাগাদ দরিদ্র মানুষের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থাটি মনে করে, বাংলাদেশে বর্তমানের কর ও জিডিপির অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়া এবং ব্যাংকিং খাতের সংকট সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে।

এনএন/ ২৯ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language