নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৩

কাঠমান্ডু, ২৯ আগস্ট – নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেপালেই ৬১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৪৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্ব গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দেশটিতে নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন এবং চীনের তিব্বত অংশে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন।
গত বুধবার হিমালয়ের নেপাল এবং চীন সীমান্ত এলাকায় একটি হিমবাহ ধসের পর তীব্র পানির স্রোত নেমে আসে। এতে নদীর তীরবর্তী এলাকা, সড়ক, সেতু এবং ঘরবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র গিরং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
বন্যার ফলে পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষে একটি নতুন হ্রদ তৈরি হওয়ায় নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম পাহাড়ি পরিবেশের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বেশ কিছু ভারতীয়কে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে দুই দেশের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে সেখানে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি দুর্গতদের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানের চেষ্টা চলছে।
এস এম/ ২৯ আগস্ট ২০২৬









