ময়মনসিংহ

গ্যাসসংকটে ময়মনসিংহের আরপিসিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং

ময়মনসিংহ, ১৭ আগস্ট – গ্যাসসংকটের কারণে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জে অবস্থিত রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিসিএল) ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন গত ২৬ দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ অঞ্চলের আরও দুটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসায় পুরো বিভাগজুড়ে লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাসসংকটের প্রভাবে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে গ্যাসের সরবরাহ একেবারেই না থাকায় গত ২৬ দিন ধরে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না।

আরপিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছিল না। ২০২২ থেকে ২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রটির প্ল্যান্ট ফ্যাক্টর ছিল ৪৫ শতাংশ, যা এর আগের অর্থবছরে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে ছিল। কেন্দ্রটি গত কয়েক বছর ধরে ৩০ থেকে ৩৫ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হয়নি।

ময়মনসিংহ আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানান, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ থাকায় ময়মনসিংহ বিভাগের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন। জেলা শহরেও নিয়মিত লোডশেডিংয়ের ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

ময়মনসিংহ সদরের গোপালনগর এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন জানান, একবার বিদ্যুৎ গেলে দীর্ঘ সময় আসার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। এতে রাতের বেলা গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ঘুমের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

অন্যদিকে নগরের কাঁচিঝুলি এলাকার নারী উদ্যোক্তা শেফালী আক্তার জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দ্বিমুখী সংকটে তাদের গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

এস এম/ ১৭ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language