জাতীয়

সক্ষমতা সত্ত্বেও দেশে তীব্র লোডশেডিং: মূল কারণ জ্বালানি সংকট ও বকেয়া পাওনা

ঢাকা, ১২ আগস্ট – দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হওয়া সত্ত্বেও চাহিদার অর্ধেক উৎপাদন করতেই বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বিদ্যুৎ খাত। মূলত গ্যাসের তীব্র অভাব, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়া এবং তেলচালিত কেন্দ্রগুলো পর্যাপ্তভাবে চালানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরমে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন যে তাপমাত্রা বাড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাতে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব বলছে, ঢাকার পাশাপাশি সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং চলছে। অথচ দেশে স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। আগস্টের শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত ভালো থাকলেও সাম্প্রতিক যান্ত্রিক ত্রুটি ও জ্বালানি সংকটে তা নাজুক হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে জ্বালানি এবং ডলারের ঘাটতি। উৎপাদন কেন্দ্র থাকলেও সেগুলো চালানোর জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস বা কয়লা পাওয়া যাচ্ছে না।

মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। ফলে সাশ্রয়ী গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ বর্তমানে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। পায়রা, বড়পুকুরিয়া এবং আদানি পাওয়ার থেকে সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বিভিন্ন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া পাওনা বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় অনেক কেন্দ্র নতুন করে জ্বালানি কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।

আর্থিক সংকটের কারণে তেলভিত্তিক ব্যয়বহুল কেন্দ্রগুলোও দীর্ঘক্ষণ চালানো যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনএন/ ১২ আগস্ট ২০২৬


Back to top button