এআই দিয়ে তৈরি হলো কৃত্রিম ভাইরাস: চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত

ওয়াশিংটন, ৭ আগস্ট – কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নতুন এবং পরীক্ষাগারে কার্যকরভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। এই প্রথমবারের মতো কোনো পূর্ণাঙ্গ ভাইরাসের জিনোম এআই দিয়ে সফলভাবে নকশা করা সম্ভব হলো।
উদ্ভাবিত ১৬টি নতুন ভাইরাস মূলত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা মানবদেহের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতিকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড় হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এটি রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এআই নকশাকৃত এই ভাইরাসগুলো জরুরি নিরাপত্তা ও সুরক্ষাজনিত উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হাই ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, এটি জেনারেটিভ এআই দিয়ে নকশা করার জটিলতায় একটি নতুন ধাপ।
প্রথমবারের মতো একটি সম্পূর্ণ জিনোম তৈরি করা হয়েছে যা কোষের ভেতরে প্রতিলিপি তৈরি করতে এবং অন্যান্য কার্য সম্পাদন করতে পারে। এই প্রযুক্তিটি চ্যাটজিপিটির মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের আদলে কাজ করে যা টেক্সটের পরিবর্তে ডিএনএ বা জিনোম অনুক্রমের পূর্বাভাস দেয়।
ইভো ১ এবং ইভো ২ নামে পরিচিত এআই মডেলগুলোকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের জেনেটিক কোড দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এরপর মডেলগুলোকে উন্নত করে ব্যাকটেরিওফেজ নামক ভাইরাস তৈরি করা হয়। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা এআই এর তৈরি নকশাগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ৩০২টি বাছাই করেন এবং ল্যাবে সেগুলো কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করেন।
এর মধ্যে ১৬টি ভাইরাস ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে কার্যকর প্রমাণিত হয়। ল্যাবের পিএইচডি শিক্ষার্থী স্যামুয়েল কিং জানান, তারা যখন বুঝতে পারেন যে ভাইরাসগুলো কাজ করছে তখন সেটি ছিল দারুণ রোমাঞ্চকর। এই সাফল্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে ওঠা সংক্রমণের চিকিৎসায় নতুন পথের দিশা দেখাতে পারে।
এস এম/ ৭ আগস্ট ২০২৬









