দক্ষিণ আমেরিকা

পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার ১৫ বছরের সাজা বাতিল ও মুক্তি

লিমা, ১ আগস্ট – পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ওলান্তা হুমালার বিরুদ্ধে ঘোষিত ১৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত পুরো ফৌজদারি মামলার কার্যক্রমও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালতের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের পর গত শুক্রবার রাতে রাজধানী লিমার বারবাদিয়ো কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেরুর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন ওলান্তা হুমালা। ২০২৫ সালে অর্থ পাচারের একটি মামলায় তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে ২০০৬ এবং ২০১১ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তিনি ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উগো চাভেজ এবং ব্রাজিলের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওডেব্রেখটের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। নিম্ন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে বিষয়টি সাংবিধানিক আদালতে গড়ায়।

দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলার সম্পূর্ণ ফৌজদারি কার্যক্রমই অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়। এর ফলে কারাগার থেকে মুক্তি পান সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। মুক্তির পর কারাফটকের বাইরে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে হুমালা বলেন যে তিনি এবং তার পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক ও বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।

তার আইনজীবী হুলিও এস্পিনোজা গোয়েনা সাংবাদিকদের জানান যে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নির্বাচনী প্রচারের জন্য অর্থ গ্রহণ করা অর্থ পাচারের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি আদালত এখন আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি খারিজ করবে।

এই একই মামলায় হুমালার স্ত্রী নাদিন এরেদিয়াকেও ২০২৫ সালে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে সাজার রায়ের পর তিনি ব্রাজিলের দূতাবাসে আশ্রয় নেন এবং পরবর্তীতে দেশটিতে যাওয়ার অনুমতি পান। উল্লেখ্য যে ওডেব্রেখট দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে পেরুর যে চারজন সাবেক প্রেসিডেন্টের নাম জড়িয়েছিল হুমালা তাদের অন্যতম।

অভিযোগ অনুযায়ী হুমালা এবং তার স্ত্রী মিলে গড়া ন্যাশনালিস্ট পার্টির জন্য ওডেব্রেখটের কাছ থেকে ৩০ লাখ ডলার এবং উগো চাভেজের কাছ থেকে আরও ২ লাখ ডলার নিয়েছিলেন। তবে শুরু থেকেই তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

ওডেব্রেখট কেলেঙ্কারিতে পেরুর আরও কয়েকজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান বর্তমানে আইনি জটিলতায় রয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো তোলেদো ঘুষ গ্রহণের দায়ে ২০ বছরের বেশি কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং আলান গার্সিয়া ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মহত্যা করেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা হুমালা ২০০০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুহিমোরির বিরুদ্ধে এক সামরিক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে আলোচনায় আসেন এবং পরে ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

এস এম/ ১ আগস্ট ২০২৬


Back to top button