পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ৩০

মোজাফফরাবাদ, ৩০ জুলাই – পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা ও সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সেখানে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত কর্মী সংগঠন নির্বাচন বর্জন করেছে এবং ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি বা জেএএসি এর নেতাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংগঠনের সদস্য সরদার উমর নাজির একটি ভিডিও বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, সোমবার নির্বাচনের প্রথম ধাপের দিন মিছিলে অংশ নেওয়া তাদের ২০ জন সমর্থক প্রাণ হারিয়েছেন। পরবর্তী দিনগুলোতে রাওয়ালাকোট এবং মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে আরও অন্তত ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন।
কর্তৃপক্ষ অবশ্য সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পিয়ার পান্ডিয়া জানান, এই পর্যায়ের সহিংসতা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বৈধতাকে বড় ধরণের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গত মাসে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আইনের আওতায় জেএএসি কে নিষিদ্ধ করার পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা তীব্র হয়।
এর ফলে ব্যাংকিং, সড়ক যোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার এই দমন পীড়নের পেছনে ভারত সমর্থিত সশস্ত্র যোদ্ধাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুললেও ভারত এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে একটি হলো কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল করা।
আন্দোলনকারীদের মতে, পাকিস্তানের মূলধারার দলগুলো এই আসনগুলো ব্যবহার করে স্থানীয় পার্লামেন্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারির মতে, ক্ষমতাসীন দল পিএমএল-এন এই সংরক্ষিত আসনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সংকটের সমাধান আরও জটিল হয়ে পড়েছে। সোমবারের নির্বাচনে ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই জয় পেয়েছে পিএমএল-এন। তবে বিরোধী পক্ষগুলো ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে।
এস এম/ ৩০ জুলাই ২০২৬









