ভারতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশে ক্ষুব্ধ ককরোচ জনতা পার্টি

নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই – ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা প্রায় দুই মাস ব্যাপী আন্দোলন করেছে দেশটির তরুণ সমাজ। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল ককরোচ জনতা পার্টি।
গত ২৫ জুলাই ভারতের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন এবং সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। তবে গত মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক নির্দেশনায় জানায় যে দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন এফআইআর বা অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত অব্যাহত রাখা যাবে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশনা দেওয়ার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি।
সংগঠনটি দাবি করেছে যে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে আদালতের এই নির্দেশনা সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। তাদের আশঙ্কা এই নির্দেশকে নরেন্দ্র মোদি সরকার রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান যে সুপ্রিম কোর্টের এই অন্তর্বর্তী আদেশ দেশজুড়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করা উচিত। বিশেষ করে চার নম্বর আদেশের মাধ্যমে সরকারকে এফআইআরের তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যা গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌরভ দাস আরও বলেন যে কেন্দ্রীয় সরকার আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দিলেও সরকারি কৌঁসুলি আদালতে বিষয়টি সঠিকভাবে উপস্থাপন করেননি। ফলে শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত দমনে আদালতকে পরোক্ষভাবে ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলো এই নির্দেশকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবাদকারীদের চূড়ান্ত হয়রানি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিহার ও আসামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন যে এফআইআর প্রত্যাহারের ক্ষমতা পুরোপুরি নির্বাহী বিভাগের হাতেই রয়েছে। আন্দোলনকারীরা সরকারের প্রতি আস্থা রেখে আন্দোলন স্থগিত করেছিল এবং সেই বিশ্বাসের অবমাননা না করার জন্য তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
এনএন/ ২৯ জুলাই ২০২৬









