ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ভেনেজুয়েলা, তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব

কারাকাস, ২৯ জুলাই – দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও রাজনৈতিক মিত্র ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভেনেজুয়েলা। তেহরানের সঙ্গে কারাকাসের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সুসম্পর্কে বিরল টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দেশটির কর্তৃপক্ষের মতে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মন্তব্য ছিল অত্যন্ত অবমাননাকর ও অনভিপ্রেত। এই ঘটনার মাধ্যমে দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের মধ্যকার সম্পর্কে নজিরবিহীন প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হলো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে কারাকাসে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে তলব করে কড়া প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে।
যদিও সুনির্দিষ্টভাবে কোন মন্তব্যের কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি তবে সম্প্রতি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায় যে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে বলেছিলেন ইরান কোনোভাবেই ভেনেজুয়েলা নয়।
মূলত এই মন্তব্যটিকেই কারাকাসের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার প্রতি কটাক্ষ হিসেবে দেখছে দেশটির বর্তমান সরকার। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তেল উৎপাদনকারী এই দুই দেশের মিত্রতা ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ়। ১৯৯৯ সালে ভেনেজুয়েলার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গত তিন দশকে জ্বালানি, খনিজ সম্পদ এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে উভয় দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রেখেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে অর্থনৈতিক সংকটের সময় ইরান ভেনেজুয়েলাকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছিল।
এমনকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ওষুধ আমদানিতে সংকটের সময়ও তেহরান টিকা পাঠিয়ে কারাকাসকে সহায়তা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক বিতর্কিত পরিস্থিতির মাধ্যমে সাবেক বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর দেশটিতে একটি নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
ধারণা করা হচ্ছে নতুন এই প্রশাসন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছে যা তেহরানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ভেনেজুয়েলার নতুন সরকার গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে যার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন দৃশ্যমান হলো।
এস এম/ ২৯ জুলাই ২০২৬









