ফুটবল

মেসিকে থামানোর কৌশল: ২০১৪ সালের জার্মান মডেল কি অনুসরণ করবে স্পেন?

মাদ্রিদ, ১৯ জুলাই – ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসিকে থামানো যেকোনো দলের রক্ষণভাগের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। তার জাদুকরী পাস এবং ড্রিবলিংয়ের সামনে বিশ্বের বড় বড় কোচেরা বারবার পরাস্ত হয়েছেন। তবে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির তৎকালীন কোচ জোয়াকিম লো এমন এক রণকৌশল সাজিয়েছিলেন যা মেসিকে নিষ্ক্রিয় করার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সম্ভাব্য লড়াইয়ে স্পেনের সামনে এখন সেই জার্মান মডেল অনুসরণের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাধারণত ম্যান মার্কিংয়ের মাধ্যমে মেসিকে আটকানোর চেষ্টা করা হয় তবে মেসি অত্যন্ত চতুরতার সাথে সেই মার্কারকে নিজের পজিশন থেকে সরিয়ে সতীর্থদের জন্য জায়গা তৈরি করে দেন।

২০১৪ সালে জার্মানি এই পথে না হেঁটে জোনাল কেজ বা আঞ্চলিক খাঁচা তৈরি করেছিল। মেসি যখনই কোনো নির্দিষ্ট জোনে প্রবেশ করতেন তখনই সেই অঞ্চলের ডিফেন্ডার তাকে দ্রুত চেপে ধরতেন এবং অন্যান্য খেলোয়াড়রা পাসিং লেন বন্ধ করে দিতেন।

রিলে রেসের মতো একজন থেকে অন্যজনের কাছে মেসির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হস্তান্তর করার ফলে তিনি বল পায়ে ঘোরার সুযোগ পাননি। মেসিকে অকার্যকর করার অন্যতম চাবিকাঠি হলো তার কাছে বল পৌঁছানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া। ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার রক্ষণভাগের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি আর্জেন্টিনার মাঝমাঠ থেকে মেসির কাছে সরবরাহ হওয়া বলগুলো আটকে দিয়েছিলেন। এছাড়া মেসি বল পেলেই তাকে শারীরিক শক্তিতে ব্যতিব্যস্ত রাখা হতো। একই সাথে বেনেডিক্ট হাওয়েডেস ও ম্যাটস হামেলস তাকে তার প্রিয় বাঁ পায়ের বদলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ডান পায়ে খেলতে বাধ্য করেছিলেন।

আগামীতে স্পেনের জন্য এই শোয়াইনস্টাইগারের ভূমিকাটি পালন করতে হবে অধিনায়ক রদ্রিকে। মিডফিল্ডের এই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে মাঝমাঠ ও রক্ষণের মাঝের শূন্যস্থানগুলো ভরাট করতে হবে। রদ্রি যদি পজিশন ধরে রেখে আর্জেন্টিনার পাসিং লাইনগুলো ব্লক করতে পারেন তবে মেসির কার্যকারিতা অনেকাংশে কমে আসবে।

এই কৌশল সফল করতে হলে স্পেনকে চরম ধৈর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং রদ্রিগো ডি পলের মতো খেলোয়াড়দের তৈরি করা চাপ ঠান্ডা মাথায় সামলাতে হবে।

এস এম/ ১৯ জুলাই ২০২৬


Back to top button