এশিয়া

মহাকাশ গবেষণায় চীনের নতুন মাইলফলক: সফলভাবে ফিরল পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট

বেইজিং, ১০ জুলাই – মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে মার্কিন আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রথমবারের মতো একটি পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট সফলভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে চীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি এই ঐতিহাসিক অর্জনের খবরটি নিশ্চিত করেছে।

এই মাইলফলক স্পর্শ করার মধ্য দিয়ে মার্কিন উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের স্পেসএক্স এবং জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের পর এই প্রযুক্তিতে চীন বিশ্বের পরবর্তী প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হলো।

চীন অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্পোরেশন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে দক্ষিণ চীনের হাইনান প্রদেশ থেকে লং মার্চ ১০বি রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটের ওপরের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রায় ছয় মিনিট পর এর বুস্টারটি খাড়াভাবে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং সমুদ্রের একটি ভাসমান প্ল্যাটফর্মে সফলভাবে অবতরণ করে।

সাধারণত মহাকাশযান উৎক্ষেপণের পর রকেটের বিভিন্ন অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই ধরনের অভিযানগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়। তবে রকেটের বুস্টার বারবার ব্যবহারের সুবিধা থাকলে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও মহাকাশ অভিযানের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

এর আগে ২০১৫ সালে স্পেসএক্স এবং পরবর্তীতে ব্লু অরিজিন এমন রকেট প্রযুক্তির সফল প্রদর্শনী করেছিল। বর্তমানে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেট প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অভিযান পরিচালনা করে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে চীন লং মার্চ ১০এ রকেটের মাধ্যমে একই ধরনের একটি চেষ্টা চালিয়েছিল, তবে সেবার রকেটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সাগরে পড়ে যায়। এবারের সফল হওয়া লং মার্চ ১০বি রকেটটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অন্তত ১৬ মেট্রিক টন ওজন বহনে সক্ষম।

চীনা রকেটের অবতরণ কৌশলে বিশেষত্ব রয়েছে, যেখানে ল্যান্ডিং হুক ভাসমান প্ল্যাটফর্মের জালের মাধ্যমে অবতরণ সম্পন্ন করে। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর চীনের শেয়ার বাজারে মহাকাশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এনএন/ ১০ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language