ফুটবল

নেইমারের পর এবার কাঁদতে কাঁদতে বিশ্বমঞ্চ ছাড়লেন ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

লিসবন, ৭ জুলাই – ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম এক বেদনাবিধুর রাতের সাক্ষী হলো পুরো বিশ্ব। নেইমার জুনিয়রের চোখের জলের রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে কাঁদাতে কাঁদাতে বিদায় জানালেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। আর সেই সঙ্গে চিরতরে ভেঙে গেল পর্তুগিজ যুবরাজের বিশ্বজয়ের শেষ স্বপ্ন।

ম্যাচটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই একটি স্নায়ুযুদ্ধ। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ঠাসা থাকলেও স্পেনের জমাট রক্ষণ আর নিখুঁত ফুটবল কৌশলের কাছে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হতে হয়েছে পর্তুগালকে। ম্যাচের একমাত্র গোলটিই পর্তুগালকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয় এবং স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।

কিন্তু ম্যাচের ফলের চেয়েও বড় ধাক্কাটি আসে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে হাহাকার নেমে আসে পর্তুগাল শিবিরে। ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। যে মানুষটি ক্যারিয়ারের শত শত কঠিন মুহূর্তেও ইস্পাতকঠিন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তিনিও আজ ভেঙে পড়লেন। ড্রেসিংরুমের টানেলে যাওয়ার পথে ক্যামেরায় ধরা পড়ে তাঁর সেই চিরপরিচিত, কিন্তু অত্যন্ত কষ্টদায়ক কান্নাভেজা মুখ। কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের বুক ভেঙে গেছে প্রিয় নায়কের এই অসহায় বিদায় দেখে।

২০০৬ সাল থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালের ফুটবলকে একা হাতে টেনেছেন সিআর সেভেন। দেশকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন করেছেন, জিতিয়েছেন নেশনস লিগ। কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের এই মহানায়কের শোকেসে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা অধরাই থেকে গেল।

এটাই ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ, আর তা এমন এক ট্র্যাজিক হারের মাধ্যমে শেষ হবে, তা হয়তো কোনো ফুটবল ভক্তই কল্পনা করেননি। তবে ইতিহাস সাক্ষী দেবে—ট্রফি দিয়ে হয়তো রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব মাপা যাবে না, কিন্তু বিশ্বমঞ্চে তাঁর এই অশ্রুসিক্ত বিদায় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অন্যতম এক বেদনাবিধুর মুহূর্ত হয়ে অমর থাকবে।

বিদায় হে মহাতারকা! ফুটবল বিশ্ব আপনাকে মিস করবে।

এনএন/ ৭ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language