ভারতে বিকল্প জ্বালানিচালিত গাড়ির চাহিদায় রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

নয়া দিল্লি, ৬ জুলাই – ইরান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে উত্তেজনার প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতে বৈদ্যুতিক, হাইব্রিড এবং সিএনজি চালিত গাড়ির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে এসব বিকল্প জ্বালানিচালিত মডেলগুলোর বাজার হিস্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জুন মাসে ভারতে মোট বিক্রিত যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে বিকল্প জ্বালানিচালিত যানের হার ছিল ৪০.৩৫ শতাংশ। মে মাসে এই হার ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্য কয়েক দফায় বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকরা এখন সাশ্রয়ী ও কম খরচে ব্যবহারযোগ্য গাড়ির দিকে বেশি ঝুঁকছেন।
ফেডারেশন অফ অটোমোবাইল ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনস বা ফাডার প্রেসিডেন্ট সি.এস. ভিগনেশ্বর এই প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানান যে, এটি ক্রেতাদের সাময়িক কোনো আবেগীয় প্রতিক্রিয়া কি না অথবা এই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সামগ্রিকভাবে দেশটিতে গাড়ি বিক্রি ২১.৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২৬ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে।
এর মধ্যে যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ২৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,১০,৮৫৩ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, যাত্রীবাহী গাড়ির মোট বিক্রির মধ্যে সিএনজি চালিত মডেলের অবদান ছিল ২৪.৩ শতাংশ। এছাড়া হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির হিস্যা ছিল যথাক্রমে ৮.৩ শতাংশ ও ৭.৮ শতাংশ।
শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান মারুতি সুজুকি জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়ার পর তাদের সিএনজি মডেলের আগাম বুকিং প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফাডার তথ্য অনুসারে, প্রথমবারের মতো দুই চাকার যান বিক্রির ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক বাহনের হার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে ১০.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সি.এস. ভিগনেশ্বর আরও যোগ করেন যে, যদিও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময়ের প্রয়োজন।
এস এম/ ৬ জুলাই ২০২৬









