এশিয়া

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ কি চিরতরে ব্যর্থতার মুখে?

পিয়ংইয়ং, ১ জুলাই – পিয়ংইয়ংয়ে সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের মধ্যে এক আড়ম্বরপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের নীতি থেকে এই সরে আসাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা পিয়ংইয়ংকে পরমাণুমুক্ত করার প্রচেষ্টার চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। পারমাণবিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ২০৩৫ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করার সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ।

গত কয়েক দশক ধরে চলা নানা কূটনৈতিক তৎপরতা ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বর্তমানে পিয়ংইয়ংয়ের হাতে প্রায় ৬০টি পারমাণবিক অস্ত্র এবং আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর উদ্ভূত নিরাপত্তা সংকট থেকে উত্তর কোরিয়া তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে। যদিও শুরুতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের ধারাবাহিক চুক্তিভঙ্গ ও উসকানিমূলক আচরণের কারণে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

তবে রাশিয়া ও চীনের পরোক্ষ সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের নজরদারিতে চীনা ভেটোর কারণে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো কখনোই পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি নিজস্ব হ্যাকার নেটওয়ার্ক ও চোরাচালানের মাধ্যমে দেশটি তাদের অর্থনীতি সচল রেখেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তার বিনিময়ে রাশিয়াও এখন দেশটির ওপর থেকে অনেক বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিম প্রশাসন তাদের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান ঢাল হিসেবে এই পরমাণু সক্ষমতাকে বিবেচনা করে।

তাই সাধারণ নিষেধাজ্ঞা বা পূর্বশর্তহীন আলোচনার মাধ্যমে নিরস্ত্রীকরণ আর সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আমূল পরিবর্তন বা দুই কোরিয়ার একত্রীকরণই একমাত্র পথ হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা সরাসরি নিরস্ত্রীকরণের পেছনে না ছুটে সময়ক্ষেপণ কৌশলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের কোন্দল বা আদর্শিক দুর্বলতাগুলো প্রকট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত প্রকাশ্যে নিরস্ত্রীকরণের নীতি বজায় রেখে উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।

এস এম/ ১ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language