ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৪৩, নিখোঁজ ৪৩ হাজার

কারাকাস, ১ জুলাই – ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পার হলেও কাটেনি বিভীষিকা। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। গত ২৪ জুন আঘাত হানা ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার এই প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৪৩ জনে।
দেশটির সরকার, বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর যৌথ পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। দুর্যোগে আহত হয়েছেন সাড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ এবং গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ১৬ হাজার বাসিন্দা। এছাড়া নিখোঁজ থাকা ৪৩ হাজার মানুষের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বাড়ছে। উদ্ধার অভিযান ইতিমধ্যে ধীর হয়ে পড়েছে।
সাধারণত ভূমিকম্পের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা প্রাণের সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হলেও সেই সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়েছে। ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দলগুলো লা গুয়াইরার মাকুতো এলাকায় ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকাদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।
ইকুয়েডর দলের প্রধান মেজর হোর্হে মন্তানেরো জানান,
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় সেখানে আর কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে এই চরম হতাশার মাঝে আশার আলো দেখিয়েছে জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল যারা কারাকাসের ধ্বংসস্তূপ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় এখন তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জানিয়েছে, অনাহার এবং ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে,
তিনটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাব এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের ভিড়ে হাম, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে,
প্রায় ৫ লাখ মানুষের জরুরি খাদ্য সহায়তার জন্য ৫ কোটি ডলার তহবিল প্রয়োজন। বর্তমানে লাখো মানুষ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এস এম/ ১ জুলাই ২০২৬









