ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা: হাঙ্গেরিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়ানোর শঙ্কা

বুদাপেস্ট, ২৯ জুন – ইউরোপের মধ্য, পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহের রেকর্ড তাপমাত্রার পর তাপপ্রবাহটি এখন পূর্বদিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর ফলে এসব অঞ্চলে তীব্র দাবদাহ অনুভূত হচ্ছে এবং তাপমাত্রা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
ইউরোপের মধ্যম মাত্রার আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে যে মঙ্গলবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে।
এর আগে পশ্চিম ইউরোপে তীব্র গরমে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে তাপপ্রবাহটি পূর্ব দিকে সরে যাওয়ায় সোমবার বেলগ্রেড ও বুখারেস্টের তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩৮ ও ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগিয়ার এক বার্তায় দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন যে তাপপ্রবাহের সবচেয়ে কঠিন সময় সামনে আসছে এবং এই পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে একে অপরের খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে নাগরিকদের স্বস্তি দিতে হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষ দেশজুড়ে দুই হাজারেরও বেশি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে।
এ ছাড়া হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভাকিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের না হতে পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে গত রোববার জার্মানিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রেকর্ড তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশটির ব্র্যান্ডেনবার্গের কোশেনে তাপমাত্রা ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। তীব্র গরমের কারণে কিছু স্থানে ট্রামের রেলপথ বেঁকে যাওয়ায় গণপরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। জনসমাগমস্থলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বার্লিন পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে পানি ছিটিয়েছে।
পশ্চিম ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতে শুরু করলেও এর ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ। ফ্রান্সে এক হাজারের বেশি এবং স্পেনে ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ এই তাপপ্রবাহে প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন যে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু সংকটের কারণেই ইউরোপে এই নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার মতে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের অপ্রতুলতা স্বাস্থ্য ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এনএন/ ২৯ জুন ২০২৬









