দেশব্যাপী চিকিৎসকদের ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ শুরু

ঢাকা, ২৩ জুন – দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং করপোরেট হাসপাতালের চিকিৎসকদেরও এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। ঢাকা ছাড়াও দেশের সব বিভাগীয় ও ডেঙ্গুপ্রবণ জেলাগুলোর চিকিৎসকদের পর্যায়ক্রমে এই প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রতিটি চিকিৎসক যেন জাতীয় প্রোটোকল অনুসরণ করে রোগী শনাক্তকরণ এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারেন তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যেই রাজধানীর ১৩৫ জন চিকিৎসককে দুই দফায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের চিকিৎসকরা অংশ নিয়েছেন। শিগগিরই আটটি বিভাগের প্রতিটি থেকে আরও ৭০ জন করে চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ। গত ৭ জুন এই জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ডেঙ্গু মোকাবিলায় নাগরিক সচেতনতার ওপরও জোর দেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্থায়ী ফিল্ড হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং ল্যাব টেস্টে ৮০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী,
চলতি বছরে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে মশার লার্ভা শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।
এস এম/ ২৩ জুন ২০২৬









