দক্ষিণ এশিয়া

নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত বৈঠক শেষ: হলো না যৌথ সংবাদ সম্মেলন

নয়াদিল্লি, ১২ জুন – নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের চার দিনব্যাপী বৈঠক গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মধ্যকার এই সম্মেলনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বৈঠকে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের ওপর হামলা এবং সীমান্ত বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো বিষয়গুলো ভারতীয় পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়েছে। তবে নজিরবিহীনভাবে এবারের বৈঠক শেষে কোনো যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।

সাধারণত এ ধরনের শীর্ষ বৈঠকের পর দুই বাহিনীর প্রধানরা যৌথভাবে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হন। এবারের সম্মেলনে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। মঙ্গলবার দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফ সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে ৫৭তম এই সীমান্ত বৈঠক শুরু হয়েছিল।

বৈঠক শেষে দুই পক্ষ আলোচনার যৌথ কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষর করলেও সাংবাদিকদের ব্রিফিং করা থেকে বিরত থাকেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে কেবল একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন যে সীমান্তে গুলি চালনা এবং বিএসএফ কর্তৃক কথিত পুশ ইন করার বিষয়গুলো বৈঠকে জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে। উল্লেখ্য যে ১৯৭৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে দুই বাহিনীর মধ্যে এই ডিজি পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

১৯৯৩ সাল থেকে বছরে দুইবার পর্যায়ক্রমে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে যার বড় একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।

সীমান্তবর্তী বিশাল এলাকা এখনো অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে।

এস এম/ ১২ জুন ২০২৬


Back to top button