যৌন নির্যাতনের অভিযোগ: আইসিসি প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

লন্ডন, ৯ জুন – যৌন নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদালতের পরিচালনা পর্ষদ একটি শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
এর আগে আদালতের নির্বাহী কমিটি খানের বিরুদ্ধে মামলাটি সদস্য দেশগুলোর একটি বিশেষ অধিবেশনে পাঠানোর বিষয়ে একমত হয়। সেখানে ভোটাভুটির মাধ্যমে তার পদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। আইসিসির ২১টি সদস্য রাষ্ট্রের কমিটি বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে জানিয়েছে যে, করিম খান গুরুতর অসদাচরণ করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে।
তবে ব্রিটিশ এই আইনজীবী শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ২০২৪ সালে প্রথম এই অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসে। হেগ ভিত্তিক আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে কর্মরত এক নারী সহকর্মী এই অভিযোগ তুলেছিলেন।
আদালতের ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের কাছে এই মামলা পাঠানোর ঘটনাকে আইসিসির ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে প্রসিকিউটরকে পদ থেকে অপসারণ করা হবে কি না সে বিষয়ে ভোটাভুটি হতে পারে। পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, সাময়িক বরখাস্তের এই সিদ্ধান্তটি তদন্তের চূড়ান্ত ফল নয়।
খান এর আগেই তদন্তের স্বার্থে প্রসিকিউশন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এই বিভাগটি মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্তদের তদন্ত ও বিচার পরিচালনা করে। জাতিসংঘের একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদন এবং বিচারিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে করিম খান তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও জবরদস্তিমূলক যৌন আচরণ করেছেন। অভিযোগের বর্ণনায় অফিসের পাশাপাশি ভ্রমণের সময় হোটেলের কক্ষে এবং বাসাতেও অপ্রীতিকর ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে করিম খানের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি কখনোই তার পদ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি এবং এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এস এম/ ৯ জুন ২০২৬









