বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় সংঘাত: বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব

ওয়াশিংটন, ৩ জুন – আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে এক বিশাল ভূকম্পন সৃষ্টি করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর এক বিশাল প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্ব বাজারে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ (Forced Labor) বা অন্যায্য উপায়ে শ্রমিক খাটানোর বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (USTR) আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবের খসড়া প্রকাশ করে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই চরম পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের এই প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধারা ৩০১’-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা সংক্রান্ত দীর্ঘ তদন্তের সর্বশেষ ফলাফল।
তদন্তের ওপর ভিত্তি করে দেশগুলোকে দুটি স্তরে ভাগ করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:
১. ১০% অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় যে দেশগুলো:
তদন্তে যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও। বাংলাদেশ ছাড়া এই ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়তে যাওয়া অন্য দেশগুলো হলো— কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য।
২. ১২.৫% অতিরিক্ত শুল্কের আওতায় বাকি বিশ্ব:
তদন্তের আওতায় থাকা তালিকায় থাকা বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর আরও কড়া নজরদারি চালানো হয়েছে। এই দেশগুলোর পণ্যের ওপর তুলনামূলক বেশি, অর্থাৎ অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকরের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
হঠাৎ কেন এমন কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন?
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে সস্তায় উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এসে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও স্থানীয় উৎপাদকদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একে ‘অন্যায্য বাণিজ্য’ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
তবে এই টাইমিং বা সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী বিতর্কিত শুল্কব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়। এরপরই ট্রাম্প প্রশাসন দেশের জরুরি শুল্ক কাঠামো নতুন করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়, যার ধারাবাহিকতায় এই বিশাল শাস্তিমূলক প্রস্তাব সামনে এল।
“যদি এই প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তবে তৈরি পোশাকসহ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যাওয়া বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এর ফলে মার্কিন বাজারে আমাদের পণ্যের দাম বেড়ে যাবে এবং প্রতিযোগিতা কঠিন হবে।” — আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক
অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব হবে বহুমাত্রিক। একদিকে যেমন মার্কিন ক্রেতাদের আমদানিকৃত পণ্যের জন্য বেশি মূল্য চোকাতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় রপ্তানিকারকদের অর্থনীতিতে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
এনএন/ ৩ জুন ২০২৬









