ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ঈদ: মানুষের সেবায় নিবেদিত প্রাণ

ঠাকুরগাঁও, ২৮ মে – কোরবানির ঈদ মানেই আত্মীয়স্বজনের সান্নিধ্য আর উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া। তবে এই আনন্দের আবহেও একদল মানুষ রয়েছেন যাদের ঈদ কাটে সর্বোচ্চ সতর্কতা আর দায়িত্বের মধ্য দিয়ে। পরিবারের মায়া আর সন্তানদের আবদার উপেক্ষা করে তারা কর্মস্থলে অবস্থান করেন।
মানুষের বিপদে সবার আগে ছুটে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে নিয়োজিত রয়েছেন। সাধারণ মানুষ যখন ঈদের উৎসবে মেতে ওঠেন তখন ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। কোরবানির সময়ে রান্নাবান্নার বাড়তি চাপ, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
যেকোনো জরুরি মুহূর্তে মানুষের প্রথম ভরসার স্থল হিসেবে তাদের থাকতে হয় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার ঈদের সকালে ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় কর্মব্যস্ততার চিত্র। কেউ গাড়ির যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করছেন আবার কেউ উদ্ধার সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখছেন।
স্টেশনের ফায়ার ফাইটার জাহিদ জানান, ঈদের দিন পরিবারের কথা খুব বেশি মনে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফেরার অপেক্ষায় থাকলেও দায়িত্বের কারণে তাদের সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। তবে কোনো দুর্ঘটনায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে এবং কাউকে নিরাপদে উদ্ধার করতে পারলে ত্যাগের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়।
আরেক সদস্য মাহফুজার রহমান বলেন, ঈদের সকালে সন্তানরা নতুন পোশাক পরে অপেক্ষা করে এবং বাবা মা জানতে চান কখন ফিরব। জরুরি কলের অপেক্ষায় থাকতে হয় বলে ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের কাছে যাওয়া হয় না। ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইন্সপেক্টর মো. মোজাম্মেল হক জানান, বর্তমানে ২০ জন সদস্যের একটি অপারেশন টিম দায়িত্ব পালন করছে।
ঈদ উপলক্ষে জেলার পাঁচটি উপজেলার স্টেশনগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দীর্ঘ আড়াই বছর কর্মজীবনে মাত্র একবার ঈদের ছুটি পেয়েছেন। সহকর্মীদের সঙ্গেই ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন এবং সরকারি বরাদ্দে নিজেরাই রান্না করে খাওয়াদাওয়া করেন। মানুষের জানমাল রক্ষায় নিবেদিত থেকেই তারা ঈদের প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পান।
এস এম/ ২৮ মে ২০২৬









