জাতীয়

১২ বছর ধরে ছুটিহীন ডিউটি: মানবেতর জীবন কাটছে ইসির নিরাপত্তা প্রহরীদের

ঢাকা, ২৮ মে – নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম মানবিক সংকট। ২০১৪ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর দীর্ঘ এক যুগ অতিবাহিত হলেও তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। দেশের ৬৪টি জেলা নির্বাচন অফিসে মাত্র একজন করে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী থাকায় তাদের চব্বিশ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এর ফলে পবিত্র ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার মতো বড় উৎসবেও তারা কোনো ছুটি পাচ্ছেন না। ভুক্তভোগীরা জানান, টানা ১২ বছর ধরে তারা কোনো সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটি ভোগ করতে পারছেন না। পরিবারের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করা তাদের জন্য এখন কেবলই স্বপ্ন।

একদিকে যেমন ছুটির অভাব, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ডিউটি করার পরও তারা কোনো ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার ভাতা পাচ্ছেন না। অথচ একই কার্যালয়ে কর্মরত গাড়িচালকরা নিয়মিত ওভারটাইম সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দ্বিমুখী নীতিমালার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়া প্রহরীদের দপ্তরি পদে পদায়নের একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে প্রতিটি আঞ্চলিক অফিসে মাত্র একজন করে এই সুযোগ পাবেন এমন শর্ত থাকায় বিষয়টিকে তারা প্রহসন হিসেবে দেখছেন।

সাধারণ প্রহরীদের দাবি, অধিকাংশ কর্মীই এই পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হবেন। কর্মক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছেন প্রহরীরা। কিছুদিন আগে ঠাকুরগাঁও জেলায় একজন নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধরের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একাংশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এই বৈষম্য দূর করতে প্রতি জেলা অফিসে অন্তত তিনজন করে প্রহরী নিয়োগ এবং শ্রম আইন অনুযায়ী ওভারটাইমের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এস এম/ ২৮ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language