সুইডিশ সাহিত্যে বিশেষ অবদান ও ‘অনুবাদ সাহিত্য পুরস্কার’

সুইডিশ সাহিত্যের বৈচিত্র্যময় জগতকে বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে পরিচিত করে তোলার পেছনে অনুবাদক লিয়াকত হোসেনের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর এই সাহিত্যযাত্রার সূচনা হয়েছিল স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময়। সুইডিশ সাহিত্যের গভীরতা ও শৈল্পিক উপস্থাপনায় আকৃষ্ট হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিবিষ্ট মনে কাজ করে যাচ্ছেন দুই ভাষার সেতুবন্ধন হিসেবে।
লিয়াকত হোসেন তাঁর সুদীর্ঘ প্রবাস জীবনে সুইডেনের কালজয়ী ও সমসাময়িক লেখকদের অসংখ্য ধ্রুপদী সৃষ্টি অনুবাদ করেছেন। তাঁর অনূদিত কাজের তালিকায় রয়েছেন বিশ্বখ্যাত সব লেখক-লেখিকা: আস্ট্রিদ লিন্দগ্রেন ও বারবো লিন্দগ্রেন, বো আর হোল্মবেরী ও প্যার নিলসন, নোবেলজয়ী সেলমা ল্যাগারলোফ ও প্যার লগারভিস্ত, সুইডিশ সাহিত্যের দিকপাল আগস্ট স্ট্রিন্দবেরী এবং হোলমার সোদারবেরী।
এ পর্যন্ত তাঁর অনূদিত ১২টি গ্রন্থ বাংলায় প্রকাশিত হয়ে পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। এছাড়াও বেশ কিছু জগদ্বিখ্যাত ক্লাসিক উপন্যাস বর্তমানে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার
লিয়াকত হোসেনের অনুবাদ শৈলী ও নিষ্ঠা কেবল পাঠকদেরই নয়, বরং খোদ সুইডিশ একাডেমীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁর নিরলস কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি সুইডিশ লেখক সংস্থা (Swedish Writers’ Union) তাঁকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছেন।
অনুবাদককে তাঁর কাজের অনুপ্রেরণা জোগাতে ৬৫ হাজার সুইডিশ ক্রোনার, প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মূল্যমানের করমুক্ত ‘অনুবাদ সাহিত্য পুরস্কার’ (২০২৬) প্রদান করেছেন।
দীর্ঘদিন সুইডেনে বসবাসরত লিয়াকত হোসেন তাঁর লেখনীর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অনুবাদ সাহিত্যের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। তাঁর এই অর্জন বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায়।









