পদ্মা সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের ঢল: বাড়তি ভাড়া ও পরিবহন সংকটে ভোগান্তি

ঢাকা, ২৫ মে – ঈদুল আজহার ছুটির প্রথম দিনেই ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার মানুষের ঘরমুখো যাত্রা শুরু হয়েছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে। বিশেষ করে মুন্সীগঞ্জ অংশের বিভিন্ন যাত্রী ছাউনিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় যানবাহন না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
অনেক যাত্রী পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। যাত্রীদের প্রধান অভিযোগ হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও আসন সংকট। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, নিয়মিত যেখানে ভাড়া ২৫০ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া দিয়েও কাঙ্ক্ষিত বাসে সিট পাওয়া যাচ্ছে না।
অনেক পরিবহন শ্রমিক যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তায় টহল টিমের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
যানজট এড়াতে ও টোল আদায় দ্রুত করতে মোট ১০টি লেন চালু রাখা হয়েছে, যার মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য রয়েছে বিশেষ দুটি লেন। সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ বলেন, নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চারটি স্থানে চেকপোস্ট এবং দুটি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত অতিরিক্ত যানবাহনের ব্যবস্থা এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এস এম/ ২৫ মে ২০২৬









