জাতীয়

শুধু পিরোজপুরেই সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে ফ্যাসিস্টরা

ঢাকা, ২৩ মে – “বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে উন্নয়নের নামে কী পরিমাণ হরিলুট হয়েছে, তা কল্পনাও করা যায় না। শুধু পিরোজপুর জেলাতেই এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ভুয়া ও কাগুজে প্রকল্পের মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ লোপাট করে দেওয়া হয়েছে।”

আজ শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিগত সরকারের মেগা দুর্নীতির এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি দেশের এই বিপুল অর্থ অপচয়, লুণ্ঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার তীব্র আহ্বান জানান।

ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে দেশের কারিগরি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এলজিআরডি মন্ত্রী। প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং দেশের সার্বিক টেকসই অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমাদের প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মুখ্য। আমি দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করি, বিগত দিনের সব জড়তা ও রাজনৈতিক চাপ কাটিয়ে আগামী দিনগুলোতে দেশের প্রকৌশলী, গবেষক ও স্থপতিরা তাদের মেধা ও সততা দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে বিগত ফ্যাসিবাদের নির্মম শিকার ও গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের অধিকার আদায়ে গঠিত দেশের অন্যতম সাহসী প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির অবদানকে অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল।

তুচ্ছ করে সব বাধা-বিপত্তির পাহাড় ডিঙিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তুলির ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শত ভয়-ভীতি, রাষ্ট্রীয় জুলুম ও বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বুক চিতিয়ে এগিয়ে গেছেন সানজিদা ইসলাম তুলি। এই ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি শুধু দেশেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গুম হওয়া পরিবারগুলোর কান্না, সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা ও ন্যায়বিচারের অকাট্য দাবি বিশ্বনেতাদের দরবারে সফলভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। তার এই লড়াই বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাপনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের উপস্থিতিতে এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের অবকাঠামো খাতের আধুনিকায়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এনএন/ ২৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language