রোহিঙ্গা সংকট এখন আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ২৩ মে – “বাংলাদেশ সর্বদা বিশ্বমঞ্চে শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাস করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর বোঝা এখন সরাসরি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে।”
আজ শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক (Gwyn Lewis-এর স্থলাভিষিক্ত বা বর্তমান প্রতিনিধি)-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ় ভাষায় এই উদ্বেগের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে টেবিল টক হয়।
বৈঠকের শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের অটল সমর্থন ও অনবদ্য সহযোগিতার জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের এই দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব অদূর ভবিষ্যতে আরও গভীর ও সুসংহত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ প্রতিনিধিকে মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। তিনি বলেন, জাতিসংঘের বিভিন্ন কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠা ও অনন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে লাল-সবুজের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করছে।
রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান ভয়াবহ রূপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই এই ইস্যুটিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের নজরে রেখেছে, যা প্রশংসার যোগ্য। তবে মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে যেসব মানবিক প্রকল্প চলমান রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। এই মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বড় আকারের বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক বক্তব্যের জবাবে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বাংলাদেশের মানবিক দৃষ্টান্তের প্রশংসা করে বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই বিশাল মানবিক উদারতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এটিও বাস্তব সত্য যে, এত বিশালসংখ্যক শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি ও ভারী বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে চিরদিন বহন করা সম্ভব নয়। এই বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে এবং সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ, কার্যকর চাপ এবং দৃশ্যমান সমর্থন প্রয়োজন।”
বৈঠকের শেষভাগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো বৈশ্বিক আহ্বানে সাড়া দিতে এবং অংশীদার হিসেবে কাজ করতে বাংলাদেশ সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
এনএন। ২৩ মে ২০২৬









