ইতিহাস আর রাজনীতির মেলবন্ধনে দীর্ঘ সময় পর ময়মনসিংহ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঢাকা, ২৩ মে – ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ উৎসবের আমেজ। কিশোর নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই পুণ্যভূমিতে দীর্ঘ দিন পর পা রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (২৩ মে) দিনব্যাপী এক ঠাসা কর্মসূচিতে অংশ নিতে সড়কপথে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তিনি।
তার এই সফরকে কেন্দ্র করে শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। একদিকে জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত খাল পুনঃখনন, অন্যদিকে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় উদ্বোধন— সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টায় গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে ত্রিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তার দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচি নিচে দেওয়া হলো:
দুপুর ১২:০০ টা: ত্রিশালের বালর ইউনিয়নের বিখ্যাত ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। (উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে এই খালটি খনন করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যা আজ আবার নতুন রূপ পেতে যাচ্ছে)।
দুপুর ২:০০ টা: ত্রিশালের নজরুল ডাক-বাংলোতে সংক্ষিপ্ত মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রামের বিরতি।
বিকেল ৩:০০ টা: ত্রিশালের ঐতিহাসিক নজরুল মঞ্চে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানের মূল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
বিকেল ৫:০০ টা: ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির এক বিশেষ যৌথ সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন এবং নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।
সন্ধ্যা ৬:৩০ টা: দিনব্যাপী সফর শেষে সড়কপথেই আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রিশালবাসীর জন্য আজকের দিনের অন্যতম বড় আকর্ষণ এই ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন প্রকল্প। স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশবিদদের মতে, এই খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর হবে। একই সাথে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মুখে ফুটবে হাসির ঝিলিক, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী
১৯১৪ সালে কিশোর বয়সে আসানসোল থেকে এই ত্রিশালের কাজির শিমলা ও নামাপাড়ায় এসেছিলেন আমাদের জাতীয় কবি। কবির সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই এবার ত্রিশালের মাটিতে সাড়ম্বরে উদযাপিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই অনুষ্ঠান। ৩ দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে নজরুল মেলা, বইমেলা, আলোচনা সভা এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বহু বছর পর জাতীয় পর্যায়ের এই বড় আয়োজন ত্রিশালে হওয়ায় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে।
নজরুল জয়ন্তী এবং উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি বিকেল ৫টার রাজনৈতিক সভাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ময়মনসিংহ উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এই যৌথ সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি সাংগঠনিক বার্তা দেবেন। সামনে দলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও স্থানীয় রাজনৈতিক মেরুকরণে এই সভাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা ত্রিশাল ও ময়মনসিংহজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।
এনএন/ ২৩ মে ২০২৬









