ভারতের প্রধান বিচারপতির মন্তব্যে ক্ষোভ: সামাজিক মাধ্যমে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র তোলপাড়

নয়াদিল্লি, ২০ মে – ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অনলাইন প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
অভিনব এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী ডিজিটাল মিডিয়া স্ট্র্যাটেজিস্ট অভিজিৎ দীপকে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতক শেষ করা এই তরুণ গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে আসা হাজারো মানুষের বার্তার জবাব দিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ মে বুধবার। খোলা আদালতে একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি যোগমাল্য বাগচীর বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, কিছু পরজীবী পুরো ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ করছে। বেকার তরুণদের একাংশকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এমন কিছু তরুণ আছে যারা কোনো চাকরি পায় না, তাদের কেউ মিডিয়ায় যায়, কেউ সামাজিক মাধ্যমে আবার কেউ আরটিআই কর্মী হয়ে সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে ১৬ মে অভিজিৎ দীপকে এক্স ও ইনস্টাগ্রামে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামের একটি প্রতীকী প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেন। দলটির সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হিসেবে কৌতুকপূর্ণভাবে বেকার এবং পেশাদারভাবে ক্ষোভ প্রকাশের ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। দলটির নির্বাচনি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে মোবাইল ফোন।
মাত্র চার দিনে এই আন্দোলনের ওয়েবসাইট ও সামাজিক পেজগুলোতে কয়েক লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছেন। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদের মতো রাজনীতিকেরাও এই দলে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে গত শনিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, তার মন্তব্যটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বেকার যুবসমাজকে লক্ষ্য করে কিছু বলেননি, বরং যারা ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে ব্যবস্থার ক্ষতি করছে তাদের উদ্দেশ্য করে এই কথা বলেছিলেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সিজেপি কেবল একটি কৌতুক নয়, বরং এটি ভারতের শিক্ষিত তরুণদের দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ ও বেকারত্বের বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী প্রতিরোধ।
এনএন/ ২০ মে ২০২৬









