বরগুনা

আদালতের এজলাসেই দুই আইনজীবীর তুমুল মারামারি, জুতা ছোঁড়াছুঁড়ি! সদস্যপদ স্থগিত

বরগুনা, ১৮ মে – আইনজীবী মানেই সমাজের শিক্ষিত ও মার্জিত শ্রেণির প্রতিনিধি। কিন্তু সেই আইনজীবীরাই যখন সামান্য একটি ইজিবাইকে (ইজি-বাইক) ওঠাকে কেন্দ্র করে খোদ আদালতের এজলাস কক্ষের ভেতরেই একে অপরের ওপর চড়াও হন, ব্যাগ ও জুতা ছুড়ে মারেন, তখন অবাক না হয়ে উপায় থাকে না! বরগুনার পাথরঘাটায় ঠিক এমনই এক নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছে। দুই আইনজীবীর এই মারামারির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনাটি চরম তোলপাড় সৃষ্টি করায় জেলা আইনজীবী সমিতি জরুরি বৈঠক ডেকে ওই দুই আইনজীবীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

রোববার (১৭ মে) দুপুরের দিকে পাথরঘাটা উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস কক্ষে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় সৌভাগ্যবশত আদালতের বিচারক পনির শেখ তার খাস কামরায় ছিলেন।

হাতাহাতিতে জড়ানো দুই হাইপ্রোফাইল আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মঞ্জু ও অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকি (যিনি বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি এবং পাথরঘাটা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত অত্যন্ত তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে। সকালে অ্যাডভোকেট মঞ্জু তার চেম্বার থেকে আদালতে আসার জন্য একটি ইজিবাইকে ওঠেন। একই ইজিবাইকে চড়ে আদালতে আসেন অ্যাডভোকেট লাকির ব্যক্তিগত মুহুরি (সহকারী) মিরাজ আহমেদ। নিজের মুহুরির অন্য আইনজীবীর সাথে একই গাড়িতে আসাটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি অ্যাডভোকেট লাকি। এই নিয়ে আদালতে পৌঁছানোর পর দুই আইনজীবীর মধ্যে শুরু হয় তীব্র কথাকাটাকাটি। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় শারীরিক হাতাহাতিতে!

ঘটনার পর দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি ও মারাত্মক সব অভিযোগ এনেছেন। অ্যাডভোকেট মঞ্জুর দাবি: “লাকি আপা আমার সিনিয়র হলেও তিনি সবার সাথেই খারাপ আচরণ করেন। ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকেই তিনি অপব্যবহার করছেন। আমার মামলা বেশি থাকায় তিনি ঈর্ষান্বিত। সকালে তার মুহুরি আমার সাথে ইজিবাইকে আসায় তিনি আমাকে যাচ্ছেতাই গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি আমার গায়ে ব্যাগ ছুড়ে মারেন এবং আমাকে জুতা দিয়েও আঘাত করেন।”

অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা লাকির পাল্টা দাবি, “অ্যাডভোকেট মঞ্জু আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। এখানে তাদের দাপট বেশি, আর আমি একা বিএনপির রাজনীতি করি। মঞ্জু সবসময় আজেবাজে কথা বলেন এবং আমার চেম্বার ভাঙার চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে দুই পক্ষের কাছ থেকেই টাকা নিয়ে মামলা চালানোর (ডাবল স্ট্যান্ডার্ড) অভিযোগ আছে। আমি এর বিচার করতে চাওয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।”

আদালতের ভেতরে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতি। সমিতির আহ্বায়ক ও জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন জানান, জরুরি সভা ডেকে ওই দুই আইনজীবীর সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা জেলার কোনো আদালতে ওকালতি করতে পারবেন না। এছাড়া, কেন তাদের সদস্যপদ স্থায়ীভাবে বাতিলের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে সুপারিশ পাঠানো হবে না—তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সশরীরে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এনএন/ ১৮ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language