অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা মামলা: তদন্তের দায়িত্বে এখন ডিবি

ঢাকা, ১৭ মে – ছোট পর্দার পরিচিত মুখ ও নাট্য অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আক্তার রিমি’র রহস্যজনক আত্মহত্যার মামলার তদন্তে বড় মোড় এসেছে। মিরপুরের বাসা থেকে স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের এই ঘটনায় দায়ের হওয়া ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ মামলার তদন্তের দায়িত্ব থানা পুলিশ থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৭ মে) ঢাকার সিএমএম আদালতের প্রসিকিউশন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৪ মে মামলার নথিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিনেতা যাহের আলভী এবং তার মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে দায়ের হওয়া এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত দিন ছিল আজ রোববার। কিন্তু মামলার নতুন তদন্ত সংস্থা ডিবি পুলিশ নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালতের কাছে সময় আবেদন করে।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আগামী ২৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন বলে জানান এসআই সাইফুল ইসলাম।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসের একটি ফ্ল্যাটে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ইকরাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় বাসার মালিক ও স্বজনরা মিলে তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিয়ের দীর্ঘ ১৬ বছর পর এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছে না ইকরার পরিবার। ২০১০ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন আলভী ও ইকরা। তাদের সংসারে একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে।
ইকরার মৃত্যুর ওই রাতেই মিরপুর থানায় অভিনেতা যাহের আলভী এবং শাশুড়ি নাসরিন সুলতানাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান।
মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে ইকরার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আলভী ও তার মা। এই দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ এবং অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
থানা পুলিশের হাত থেকে ডিবির কাছে দায়িত্ব যাওয়ার পর তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা মোড় আসে কিনা, এবং আগামী ২৪ জুন ডিবি কী রিপোর্ট জমা দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে সবাই।
এনএন/ ১৭ মে ২০২৬









