আইন-আদালত

হামের বদলে জলাতঙ্কের টিকা: হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নয়?

ঢাকা, ১৪ মে – টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে মাত্র ৩৪ দিনের এক শিশুকে হামের টিকার পরিবর্তে দুই ডোজ জলাতঙ্কের (র‍্যাবিক্স) ভ্যাকসিন দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনায় উত্তাল সারাদেশ। এই অমানবিক ও চরম গাফিলতির ঘটনায় এবার হস্তক্ষেপ করেছেন উচ্চ আদালত। দোষীদের বিচার ও ভুক্তভোগী শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আজ বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক এক আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আজ এই আদেশ দেন।

আদালতের মূল নির্দেশগুলো হলো:

  • তদন্ত কমিটি: ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
  • চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ: ভুক্তভোগী শিশুটির যাতে কোনো দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক ক্ষতি না হয়, সেজন্য অবিলম্বে তার উপযুক্ত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • ক্ষতিপূরণ: শিশুটির পরিবারকে কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি রুল জারি করেছেন আদালত।

গত কাল (১৩ মে) দুপুরে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর পরিবর্তে পিআরএলে থাকা (অবসরকালীন ছুটি) মোহাম্মদ কাইয়ুমকে দিয়ে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে ওই নবজাতককে হামের টিকার বদলে দুই ডোজ র‍্যাবিক্স ভ্যাকসিন দিয়ে দেওয়া হয়।

শিশুর পরিবার অভিযোগ করেন, ভুল টিকার বিষয়ে কথা বলতে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মীরা তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। জীবনের শুরুতেই এমন ভয়াবহ চিকিৎসাগত ভুলের শিকার হয়ে শিশুটির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

একজন অবসরে থাকা কর্মীকে দিয়ে কেন সরকারি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হলো—তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল অবহেলা নয়, বরং একটি অপরাধমূলক কাজ (Criminal Negligence)।

৩৪ দিনের শিশুর শরীরে জলাতঙ্কের টিকা—এই ভয়াবহ ভুলের দায় কার? দোষীদের কি কেবল বদলি নয়, বরং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত? আপনার মন্তব্য লিখুন নিচে।

এনএন/ ১৪ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language