জাতীয়

পদ্মা ব্যারেজ ও স্মার্ট ডেটাবেজ: তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেকে উঠছে ১৬ মেগা প্রজেক্ট!

ঢাকা, ১৩ মে – দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে নিতে যাচ্ছে সরকার। আজ বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। আজকের এই সভায় মোট ১৬টি বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বিশালাকৃতির ‘পদ্মা ব্যারেজ’ এবং ভোটার ডেটাবেজের কঠোর নিরাপত্তা প্রকল্প।

আজকের সভার প্রধান আকর্ষণ রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীর ওপর প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্প। যার ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা, দৈর্ঘ্য: ২.১ কিলোমিটার।

ফারাক্কা ব্যারেজের প্রভাবে সৃষ্ট দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট মোকাবিলা করা। এটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনবে এবং সুন্দরবন এলাকার লবণাক্ততা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এই ব্যারেজ থেকে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে বড় অবদান রাখবে।

সুরক্ষিত হচ্ছে আপনার তথ্য

নাগরিক তথ্যের গোপনীয়তা এবং নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের নাম, ‘উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং নির্বাচনী ডেটাবেজের জন্য সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’। এর বাজেট: ৪৯২.৮৩ কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল: ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল।

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো ইভিএম, ব্যালট বাক্স ও ভোটার তালিকার তথ্য সুরক্ষিত রাখা। এর আওতায় ১টি আঞ্চলিক, ৩টি জেলা এবং ৪৫টি উপজেলা পর্যায়ে অত্যাধুনিক সার্ভার স্টেশন ও কার্যালয় নির্মাণ করা হবে।

তালিকায় আরও যেসব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প:

আজকের বৈঠকে আরও বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভাগ্য নির্ধারিত হবে:

  • সংস্কৃতি ও শিক্ষা: চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন উন্নয়ন।
  • স্বাস্থ্যসেবা: দেশের বিভিন্ন মাতৃ ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যায় উন্নীত করা।
  • প্রযুক্তি ও নগর: হাই-টেক সিটি-২ এর অবকাঠামো নির্মাণ, বিমসটেক সচিবালয় ভবন এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের নতুন নগর ভবন।
  • আবাসন: সাভার ক্যান্টনমেন্টে আধুনিক আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণ।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের নকশা সংশোধন করা হয়েছে। অপচয় রোধে বিলাসিতা বর্জন করে কেবল প্রয়োজনীয় অংশগুলোই রাখা হয়েছে। আজকের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্য, বিদ্যুৎ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

এনএন/ ১৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language