জাতীয়

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরা: ৩ দিনেই আড়াই হাজার ট্রাফিক মামলা শনাক্ত

ঢাকা, ১২ মে – রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত প্রযুক্তির ওপর জোর দিচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বসানো হয়েছে উচ্চপ্রযুক্তির এআই ক্যামেরা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক সার্জেন্টের বাঁশি বা হাতের ইশারার অপেক্ষা না করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনকে শনাক্ত করা হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর মাধ্যমে ডিজিটাল মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে যা সরাসরি গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার এবং বিজয় সরণিসহ অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে এই অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গত ৭ মে থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় প্রথম কয়েক দিনেই ট্রাফিক আইন ভঙ্গের আড়াই হাজারেরও বেশি ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিটের একটি বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে এই ভিডিও ফুটেজগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে। যাচাই শেষে প্রতিটি অপরাধের বিপরীতে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী জরিমানা ও মামলার নোটিশ পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ক্যামেরার মাধ্যমে মূলত সিগন্যালের লাল বাতি অমান্য করা, জেব্রা ক্রসিংয়ের ওপর গাড়ি থামানো, উল্টো পথে যাতায়াত এবং হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোর মতো বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার বা সিটবেল্ট না পরার মতো বিষয়গুলোও প্রযুক্তির আওতায় আসবে। এই প্রক্রিয়ায় আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবিক ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এই নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানান, এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

তবে সার্ভারের সক্ষমতা এবং কারিগরি কিছু দিক বিবেচনা করে বর্তমানে ধীরগতিতে কাজ করা হচ্ছে। অনেক গাড়ির নম্বর প্লেট অস্পষ্ট হওয়ার কারণে শনাক্তকরণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এই সমস্যা কাটাতে দ্রুতই একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে যাতে সব গাড়ির নম্বর প্লেট স্পষ্ট এবং দৃশ্যমান থাকে। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রযুক্তির এই নজরদারির ফলে চালকদের মধ্যে নিয়ম মানার এক ধরনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে কারওয়ান বাজার মোড়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. সবদুল জানান, আগে আইন ভাঙা গাড়ি থামাতে গিয়ে সড়কে যানজট সৃষ্টি হতো। এখন প্রযুক্তির কল্যাণে প্রমাণসহ মামলা দেওয়া সম্ভব হওয়ায় পুলিশের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে এবং সাধারণ মানুষও এর সুবিধা পাচ্ছে। এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে ঢাকার সড়কের চিত্র আমূল বদলে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এম/ ১২ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language