রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেফতার দাবি করলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল – জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে থাকার বা কোনো বক্তব্য দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই।
নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, তাকে নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার করা হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিশ্চিত করা এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংক দখলের সুযোগ করে দেওয়ার মূল কারিগর। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা এবং ফ্যাসিবাদের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করে নাহিদ তাকে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
সংবিধান প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা রচিত হয়নি। এটি সত্তরের নির্বাচনে নির্বাচিতদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, যা মূলত পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনার জন্য ছিল। তিনি এই সংবিধানকে উত্তরাধিকার সূত্রে অগণতান্ত্রিক এবং মুজিববাদী আদর্শে রচিত বলে মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভুলের কথা উল্লেখ করে বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিলের যে সুযোগ এসেছিল তা তখন হারানো হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপি এই সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
দেশের আর্থিক খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে শুধুমাত্র বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধার্থে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দলের প্রার্থীদের বিপুল পরিমাণ ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ করে দিতেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি টিআইবির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংসদ সদস্যদের ঋণের তথ্য তুলে ধরেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, এই আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধের নতুন রূপ বা নবায়ন। এর সাথে মুক্তিযুদ্ধের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান নেই। তবে আন্দোলনের পর রাজনৈতিকভাবে দলগুলোর পথ আলাদা হয়ে গেছে।
ভারতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি মর্যাদা ও সাম্যের ভিত্তিতে বৈদেশিক নীতি পরিচালনার আহ্বান জানান।
দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পরিশেষে, সংসদীয় কার্যক্রমে সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের গুরুত্ব অস্বীকার করায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন।
এনএন/ ৩০ এপ্রিল ২০২৬









