শেরপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়: অন্ধকারে অর্ধশত গ্রাম

শেরপুর, ২৮ এপ্রিল – টানা চার দিন ধরে চলা কালবৈশাখী ঝড়, অতিবৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রভাবে শেরপুর জেলার প্রায় সবকটি উপজেলায় চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে গাছের ডালপালা বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর ভেঙে পড়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি গ্রামের কয়েক লাখ মানুষ টানা ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২৫ এপ্রিল রাত থেকে শুরু হওয়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকার সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি, গান্ধিগাঁও, সন্ধ্যাকুড়া, হালচাটিসহ বহু এলাকায় তিন-চার দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। একই অবস্থা বিরাজ করছে শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পাহাড়ি এলাকায় বন্য হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। লাইট চার্জ দিতে না পারা এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছন্ন থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গ্রাহকদের অভিযোগ অনেক এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রীবরদী উপজেলার ডিজিএম প্রকৌশলী সূর্য নারায়ণ ভৌমিক জানান, ঝড়ের কারণে বারবার লাইনে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় মেরামত কাজে দেরি হচ্ছে।
শেরপুর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. মাইনউদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ নেই এটি সত্য তবে সব গ্রামের তথ্য সঠিক নয়। বন্য হাতির চলাচলের কারণে প্রশাসনের অনুরোধে কিছু এলাকায় সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তারা দ্রুত সমস্যা সমাধানে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কৃষি ও শিক্ষাসহ জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এস এম/ ২৮ এপ্রিল ২০২৬









