মে মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মজুদ নিশ্চিত, সংসদে জানালেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

ঢাকা, ২২ এপ্রিল – বর্তমান সরকার আগামী মে মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে জুন ও জুলাই মাসের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রস্তুতি চলছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনা এক আলোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান যে ১৭ ফেব্রুয়ারি যখন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ছিল মাত্র সাত দিনের। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় আমদানিকৃত তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। তবে সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপ ও বিকল্প উৎস সন্ধানের ফলে বর্তমানে জ্বালানি পরিস্থিতি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন গত দুই মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্য ১৪২.৭৩ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় মাত্র ১০ থেকে ১৬ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
কৃষকদের সেচ কার্যক্রমের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রথম ৪৫ দিন কোনো দাম বাড়ানো হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে পাবনা নাটোর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসাধু চক্র পানির ট্যাংক ড্রয়িংরুম এমনকি মাটির নিচে ডিজেল মজুদ করছে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেও তেল পাচারের চেষ্টা চলছে। এসব অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে কার্যকর করা হবে।
বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংকট নিরসনে যেকোনো গঠনমূলক পরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনার আমন্ত্রণ জানান।
এনএন/ ২২ এপ্রিল ২০২৬









