কিয়েভে বন্দুকধারীর হামলা ও জিম্মি দশা: হামলাকারীসহ নিহত ৬

কিয়েভ, ১৯ এপ্রিল – ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে এক বন্দুকধারীর ভয়াবহ গুলিবর্ষণ ও জিম্মি সংকটে হামলাকারীসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার কিয়েভের দক্ষিণাঞ্চলীয় হোলোসিভস্কি জেলায় এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। চলমান যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝে শহরটিতে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ সহিংসতা অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশটির কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্দুকধারী ব্যক্তি প্রথমে রাস্তার পথচারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়।
এরপর সে নিকটস্থ একটি সুপারমার্কেটে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা বেশ কয়েকজন মানুষকে জিম্মি করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউক্রেনের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ক্লিমেঙ্কো জানান, প্রায় ৪০ মিনিট ধরে হামলাকারীর সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু ওই ব্যক্তি কোনো সুনির্দিষ্ট দাবি না জানিয়ে উন্মত্ত আচরণ চালিয়ে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে জিম্মিদের একজনকে সে হত্যা করলে পুলিশ চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণে সুপারমার্কেটের ভেতরেই হামলাকারী নিহত হয়।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। রাস্তায় গুলিতে চারজন নিহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া জিম্মি থাকা অবস্থায় আরও একজনকে হত্যা করে ওই বন্দুকধারী। অভিযান শেষে চারজন জিম্মিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা।
ইউক্রেনের প্রসিকিউটর জেনারেল রুসলান ক্রাভচেঙ্কো হামলাকারীকে শনাক্ত করে জানান, ৫৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি রাশিয়ার মস্কোর বাসিন্দা ছিলেন। তবে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে বসবাস করছিলেন। হামলায় ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রটি আইনত নিবন্ধিত ছিল বলে জানা গেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ওই ব্যক্তি হামলা শুরু করার আগে নিজের ফ্ল্যাটে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে হামলার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি এবং হামলার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখছে কিয়েভ প্রশাসন।
এস এম/ ১৯ এপ্রিল ২০২৬









