বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সূর্যের তাপে ভাঙছে গ্রহাণু, পৃথিবীতে দেখা যাবে নতুন উল্কাবৃষ্টি

ওয়াশিংটন, ১৭ এপ্রিল – সূর্যের তীব্র উত্তাপে একটি বিশাল গ্রহাণু ধীরে ধীরে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এই ভাঙনের ফলে সৃষ্ট বিশাল ধ্বংসাবশেষ মহাকাশে মেঘের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথিবী যখন তার নিজস্ব কক্ষপথে চলার সময় এই মেঘের মধ্য দিয়ে যাবে, তখন সেই পাথুরে কণাগুলো উল্কাবৃষ্টি হিসেবে দেখা দেবে। নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানী প্যাট্রিক শোবার এই নতুন তথ্য জানিয়েছেন। বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ২৮২টি শুটিং স্টার বা উল্কার একটি নতুন গুচ্ছ শনাক্ত করেছেন। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, এই উল্কাগুলো মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট উৎস থেকে সৃষ্টি হয়েছে।

গবেষকদের মতে, এই পাথুরে ধ্বংসাবশেষ মূলত একটি মৃতপ্রায় গ্রহাণু বা রক কমেট এর অবশিষ্টাংশ। এটি সূর্যের অত্যন্ত নিকটবর্তী হওয়ার কারণে প্রচণ্ড তাপে ভেঙে গেছে। বিজ্ঞানী প্যাট্রিক শোবার এই আবিষ্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, সূর্যের প্রচণ্ড তাপে একটি গ্রহাণুর ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ এখানে পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত প্রতিদিন অসংখ্য ক্ষুদ্র মহাকাশ শিলা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে এগুলো জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল আলোকরেখা তৈরি করে, যা খালি চোখেও দৃশ্যমান হয়।

এই কণাগুলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৫ মাইলেরও বেশি গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। সাধারণত ধূমকেতু থেকে উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। ধূমকেতু সূর্যের কাছাকাছি গেলে এর বরফ গ্যাসে পরিণত হয়ে তা ভেঙে যায়। একইভাবে কোনো পাথুরে গ্রহাণু সূর্যের খুব কাছে গেলে তা উত্তাপে ফেটে গিয়ে ধূলিকণা ও ছোট ছোট পাথর ছড়িয়ে দিতে পারে। এই বিশেষ উল্কাগুলোর গঠন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে এগুলো ধূমকেতুর চেয়ে কিছুটা শক্ত প্রকৃতির।

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, সূর্যের তীব্র তাপে গ্রহাণুটির উপরিভাগে ফাটল সৃষ্টি হয় এবং ভেতরে জমে থাকা গ্যাস বেরিয়ে আসার সময় সেটিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। এই গ্রহাণুটি পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা এই নতুন উল্কাবৃষ্টির নাম দিয়েছেন এম২০২৬ এ১। প্রতি বছর ১৬ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই বিশেষ মহাকাশীয় দৃশ্য দেখা যাবে বলে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন।

এস এম/ ১৭ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language