সারা দেশে ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের হাতে পৌঁছাল ডিজিটাল ‘কৃষক কার্ড’

ঢাকা, ১৪ এপ্রিল – কৃষকদের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন এক দিগন্তের সূচনা হলো কৃষক কার্ডের মাধ্যমে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুল প্রতীক্ষিত এই কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেন।
সারা দেশের ১১টি উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক, মৎস্যচাষি, খামারি এবং লবণচাষিদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক কার্ডধারী ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পেয়েছেন। এই অর্থ তারা বীজ, সারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ কিনতে ব্যবহার করতে পারবেন।
কৃষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা পাঠানো হয়েছে, যা এই কার্ডের মাধ্যমে খুব সহজেই উত্তোলন বা ব্যবহার করা যাবে।
বিশ্বখ্যাত ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভিসা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
বাংলা নববর্ষের দিনে চালু হওয়া এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। মূলত কৃষকদের পরিচয়পত্র হিসেবে কার্ডটি ডিজাইন করা হয়েছে। তবে ভিসার প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি একটি নিরাপদ এবং সহজ ক্যাশলেস বা নগদহীন লেনদেন ব্যবস্থাও নিশ্চিত করবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, বোদা, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় এই কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা মোট দশ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্প খরচে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া এবং বাজার সম্পর্কিত তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগ ও পোকামাকড় দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ।
এনএন/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬









