যুক্তরাষ্ট্রের চরম অবস্থানে ব্যর্থ ইসলামাবাদ সংলাপ, হতাশ ইরান

তেহরান, ১৩ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সংলাপে ইরান আন্তরিকতা নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল দেশটি। তবে মার্কিন প্রতিনিধিদের চরম অবস্থান, আলোচনার বিষয়বস্তু পরিবর্তন এবং নতুন করে অবরোধ আরোপের কারণে শেষ পর্যন্ত এই সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে।
গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সংলাপ ব্যর্থ হওয়ায় তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এক্সবার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম সরাসরি ও নিবিড় সংলাপে ইরান সদিচ্ছা নিয়েই অংশ নিয়েছিল এবং তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তিনি জানান, ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং বা এমওইউ স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর পরও অপরপক্ষের চরম অবস্থান ও লক্ষ্য পরিবর্তনের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।
এই আলোচনা থেকে প্রাপ্তি শূন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সদিচ্ছা থেকেই সদিচ্ছার জন্ম হয়, আর শত্রুতা কেবল শত্রুতাই ডেকে আনে।
এর আগে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী সংলাপ চলেছিল। কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে অপারেশন এপিক ফিউরি নামের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েলও অপারেশন রোয়ারিং লায়ন নামের অভিযান চালায়।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্বে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী নিহত হন। এ ছাড়া মোজতবা নিজে গুরুতর আহত হন।
এরপর কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা ফের সংলাপে বসলেও ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়।
এনএন/ ১৩ এপ্রিল ২০২৬









