হাম প্রতিরোধে ৪ সিটিতে টিকাদান শুরু, দেশব্যাপী ২০ এপ্রিল থেকে

ঢাকা, ১২ এপ্রিল – হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে এই কার্যক্রম চলবে।
আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
তিনি জানান, বিগত সময়ের কিছু ত্রুটির কারণে দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। বর্তমানে ছয় থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের জন্য এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব শিশু বর্তমানে জ্বরে ভুগছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত টিকা দেওয়া যাবে না। এছাড়া প্রথম ডোজ গ্রহণের পর চার সপ্তাহ পূর্ণ না হলে পরবর্তী ডোজ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে নজীর আহমেদ বলেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও মারাত্মক ভাইরাল রোগ। দীর্ঘদিন ধরে টিকার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্প্রতি এর প্রকোপ মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন শিশু সংক্রমিত হতে পারে। হাম সরাসরি মৃত্যুর কারণ না হলেও এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও মস্তিষ্কের জটিলতার মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া এটি শরীরে ভিটামিন এ এর ঘাটতি তৈরি করে।
তিনি আরও জানান, গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি এবং গায়ে ফুসকুড়ি ওঠা হামের সাধারণ লক্ষণ। বর্তমানে জ্বর ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে তা হাম হিসেবে সন্দেহ করতে হবে। যেহেতু এটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করতে হয়। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
এনএন/ ১২ এপ্রিল ২০২৬









