উত্তর আমেরিকা

এপস্টিন বিতর্ক নিয়ে মেলানিয়ার প্রকাশ্য বক্তব্য, তুঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা

ওয়াশিংটন, ১১ এপ্রিল – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প জেফরি এপস্টিন বিতর্ক নিয়ে হঠাৎ করেই প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে তার এই বক্তব্য বিতর্ক প্রশমিত করার বদলে উল্টো নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।

হোয়াইট হাউসের একটি আনুষ্ঠানিক জায়গা থেকে দেওয়া প্রায় ছয় মিনিটের ওই বক্তব্যে মেলানিয়া স্পষ্ট জানান যে তিনি এপস্টিনের কোনো ভুক্তভোগী নন। এছাড়া এপস্টিন তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মেলানিয়া বলেন যে এপস্টিনকে জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে তার অবিলম্বে অবসান হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন যে এপস্টিনের সঙ্গে তার কখনো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল না। নিউইয়র্ক এবং ফ্লোরিডায় বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মাঝে মাঝে তাদের দেখা হতো মাত্র।

বহু বছর আগে এপস্টিনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে একটি সাধারণ ইমেইল আদানপ্রদান হয়েছিল বলে তিনি জানান। এই তুচ্ছ যোগাযোগটিকে অকারণে বড় করে দেখানো হচ্ছে বলে মেলানিয়া অভিযোগ করেছেন।

উল্লেখ্য যে জেফরি এপস্টিন একজন ধনাঢ্য অর্থলগ্নিকারী ছিলেন যার বিরুদ্ধে একাধিক যৌন অপরাধের অভিযোগ ছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন যে ২০০০ সালের প্রথম দিকেই তিনি এপস্টিনের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তার কোনো অপরাধ প্রকাশ্যে আসার আগেই এই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে তিনি জানান। এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বা মেলানিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে মেলানিয়ার এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এপস্টিন কাণ্ডে ভুক্তভোগী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে মেলানিয়া তার বক্তব্যের মাধ্যমে ফেডারেল সংস্থাগুলোর দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। তারা আরও দাবি করেন যে সরকার এখনো এই মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি প্রকাশ করেনি।

ডেমোক্রেট নেতারা বলছেন যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য মেলানিয়াকে কংগ্রেস কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত।চলতি বছরের শুরুতে সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনও এই তদন্তে সাক্ষ্য দিয়ে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন যে মেলানিয়ার এই বক্তব্য তাকে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে এবং হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন দ্বন্দ্বের শঙ্কা তৈরি করতে পারে। এপস্টিন ইস্যু এবং ইরান বিতর্কের জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্পও বর্তমানে বড় রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

এনএন/ ১১ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language