রংপুরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামিরা অধরা

রংপুর, ১০ এপ্রিল – রংপুর মহানগরীতে রাকিব হাসান নামের এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
নিহত রাকিব হাসান মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর বৈরাগীপাড়া বা মাছুয়াপাড়া এলাকায় এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মমিন ও তার সহযোগীরা রাকিব হাসানের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই রাকিবের মৃত্যু হয়। হামলাকারীরা তাকে গলা কেটে হত্যা করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ জানান, মাদক নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত বছর নভেম্বরে রাকিবের পা ভেঙে দিয়েছিল মমিন। ওই সময় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে তাকে দীর্ঘ চিকিৎসা নিতে হয়।
ঘটনার আগের দিন বুধবার একটি চায়ের দোকানে রাকিবের সঙ্গে মমিনের স্ত্রীর বাগবিতণ্ডা হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে রাকিবকে ডেকে নিয়ে যায় মমিন। সেখানে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
রাকিবের স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে মমিনের সঙ্গে রাকিবের দ্বন্দ্ব চলছিল। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ রহমান জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এনএন/ ১০ এপ্রিল ২০২৬









