এভারেস্টে পর্যটকদের বিষ খাইয়ে ১৫০ কোটি টাকার বিমা জালিয়াতি

কাঠমুন্ডু, ৩ এপ্রিল – হিমালয়ের এভারেস্ট অঞ্চলে বিদেশি পর্যটকদের টার্গেট করে এক ভয়ংকর বিমা জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। পর্যটকদের খাবারে বিষাক্ত উপাদান মিশিয়ে অসুস্থ করার পর জরুরি হেলিকপ্টার উদ্ধারের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জানিয়েছে, এই জালিয়াতির আর্থিক পরিমাণ প্রায় দুই কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড়শ কোটি টাকারও বেশি। তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্রের বিশাল নেটওয়ার্কে শেরপা গাইড, হেলিকপ্টার অপারেটর থেকে শুরু করে হাসপাতাল ও ল্যাবরেটরির কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছেন। তদন্তকারীরা জানান, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এই জালিয়াতি চালানো হতো।
পর্যটকদের খাবারে বেকিং সোডা, কাঁচা মুরগির মাংস এবং ইঁদুরের বিষ্ঠা পর্যন্ত মিশিয়ে দেওয়া হতো। এর ফলে পর্যটকদের বমি ভাব, মাথাব্যথা ও চরম দুর্বলতা দেখা দিত। এসব লক্ষণ সাধারণত উচ্চতাজনিত অসুস্থতার মতোই হয়ে থাকে। এরপর গাইডরা পর্যটকদের ভয় দেখিয়ে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে নিচে নামতে বাধ্য করতেন। নিচে নামানোর পরই শুরু হতো মূল প্রতারণা। অনেক সময় সম্পূর্ণ সুস্থ পর্যটকদেরও ভুয়া উদ্ধার দেখিয়ে বিমা কোম্পানিগুলোর কাছে বিপুল অঙ্কের বিল পাঠানো হতো। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চার হাজার সাতশ বিরাশি জন আরোহী এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ইতোমধ্যে তিন শতাধিক ভুয়া উদ্ধার অভিযানের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় ৩৩ জনের একটি তালিকা তৈরি করে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ট্রেকিং কোম্পানি, হেলিকপ্টার অপারেটর এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রয়েছে। নেপাল পুলিশ এই ঘটনাকে কেবল আর্থিক জালিয়াতি হিসেবে নয়, বরং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে। এর আগে ২০১৮ সালেও দেশটিতে একই ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছিল।
সেন্ট্রাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো প্রধান মনোজ কুমার কেসি জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেই এমন জালিয়াতি পুনরায় বিস্তার লাভ করেছে। এই ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক বিমা কোম্পানিগুলো নেপালকে তাদের কাভারেজ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ফলে দেশটির পর্যটন খাত গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারে। নেপাল টুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে প্রতিটি উদ্ধার অভিযান কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং পর্যটকদের গাইড বা কোম্পানি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এস এম/ ৩ এপ্রিল ২০২৬









