পাবনা

জ্বালানি সংকটে আরিচা ও কাজিরহাট নৌপথে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ, যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

পাবনা, ১ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটের কারণে গত দুই দিন ধরে পাবনার কাজিরহাট ও মানিকগঞ্জের আরিচা নৌপথে দ্রুতগতির স্পিডবোট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে এই পথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অন্যদিকে স্পিডবোট বন্ধ থাকায় মালিকদের লোকসানের পাশাপাশি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন চালকরা।

বোটমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সড়কপথে পাবনা থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে যানজটের কারণে অনেক সময় আট থেকে বারো ঘণ্টা লেগে যায়। এই দীর্ঘ যাত্রার ভোগান্তি কমাতে ২০১৬ সালে আরিচা ও কাজিরহাট নৌপথে দ্রুতগতির স্পিডবোট সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। স্পিডবোট ব্যবহার করে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় পাবনা থেকে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হতো।

বর্তমানে স্পিডবোট না পেয়ে যাত্রীদের ফেরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একজন যাত্রী মো. আহনাফ জানান, ফেরিতে নদী পার হতে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। কিছুটা বেশি খরচ হলেও স্পিডবোটে দ্রুত পার হওয়া যেত।

আরেক যাত্রী হানিফের মতে, বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কিছু মানুষ অন্যায়ভাবে সুবিধা নিচ্ছে।

বোটমালিকরা জানিয়েছেন, আগে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি বন্দরের ডিপো থেকে চুক্তির ভিত্তিতে পেট্রোল সংগ্রহ করা হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আগের প্রক্রিয়ায় পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না।

বোটমালিক সমিতির সভাপতি রইস উদ্দিন জানান, ঈদের আগেই স্পিডবোট বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্থানীয় পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে ঈদযাত্রায় সার্ভিস সচল রাখা হয়। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ায় আর তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

কিছু অসাধু চালক বাড়তি ভাড়ায় যাত্রী পারাপার করার চেষ্টা করলে মালিক সমিতির সিদ্ধান্তে তেলের সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই রুটে বর্তমানে পঁচাত্তরটি বোট রয়েছে এবং প্রতিদিন ত্রিশটি বোট যাত্রী পারাপার করে। এর জন্য প্রতিদিন ছয়শ থেকে সাড়ে ছয়শ লিটার পেট্রোলের প্রয়োজন হয়। বোট চলাচল বন্ধ থাকায় মালিকদের প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা লোকসান হচ্ছে এবং চালকরা বেকার হয়ে পড়েছেন।

চালক মিরাজ ও বাপ্পি জানান, রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবারের ব্যয় মেটাতে তারা চরম বিপদে পড়েছেন।

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. শাহেদ মোস্তফা জানিয়েছেন, ঈদের সময় সংকটের সমাধান করা হয়েছিল। নতুন পরিস্থিতির বিষয়ে তাকে কেউ অবহিত করেনি। খোঁজ নিয়ে স্পিডবোট পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এনএন/ ১ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language