উত্তর আমেরিকা

ইরান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হবে, হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে: ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ৩১ মার্চ – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সেখান থেকে সরে গেলে হরমুজ প্রণালি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান।

ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে আর বেশিদিন অবস্থান করবে না। বর্তমানে ইরানের ওপর ব্যাপক মাত্রায় অভিযান চালানো হচ্ছে এবং তাদের অবশিষ্ট আক্রমণাত্মক সক্ষমতা নির্মূল করতে আরও সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

তার মতে, মার্কিন পদক্ষেপ ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে এবং এটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান এই সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থানে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ চলাচলের পথ হরমুজ প্রণালি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রেখেছে ইরান।

ট্রাম্প মনে করেন, এই প্রণালি সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ ছাড়াই খুলে যেতে পারে। যেসব দেশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল তাদেরকেই এটি পুনরায় চালুর দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

এই প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ইরানের ইসফাহান শহরে পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন হামলার বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি দাবি করেন, ওই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং তা অত্যন্ত কার্যকর ছিল।

তার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। মার্কিন অভিযানের ফলে তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নেতৃত্ব কাঠামোর পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেন।

সংঘাত কমার আভাস দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে মেরিন উভচর ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর প্যারাট্রুপারসহ হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন রেখেছে।

সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনায় বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মতো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো হবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এনএন/ ৩১ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language